ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২১ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা, তবুও চলছে ব্যবসা

author
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৩ আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬
ad003
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ৯নং বারোবাজার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) পুরাতন ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার দুই দশকেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় ২১ বছর আগে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও সেখানে এখনো নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় ভবনটি ধসে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ষাটের দশকে বারোবাজার-হাকিমপুর সড়কের পাশে বাজারের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদের ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ভবনটির নিচতলায় ইউনিয়ন পরিষদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো এবং দ্বিতীয় তলায় পুলিশ ফাঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

পরে ২০০৪ সালে তৎকালীন চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান রঞ্জুর কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। দায়িত্ব গ্রহণের পর ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একই বছর সেটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বারোবাজার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়।

পরবর্তীতে ২০০৫ সালে সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের পরিবারের দান করা বাদুরগাছা সড়কসংলগ্ন জমিতে নতুন আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হলে সেখানে পরিষদের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয়।

কিন্তু পরিত্যক্ত ঘোষণার দীর্ঘ সময় পরও পুরাতন ভবনটি আজও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ব্যবহৃত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ জামিরুল ইসলাম কোনো বৈধ বরাদ্দ বা অনুমোদন ছাড়াই ভবনটির একটি অংশে প্রায় ১৭ বছর ধরে পোল্ট্রি মুরগির ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ভবনের বাকি অংশও তার চাচাতো ভাইদের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলেও জামিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি মাঝেমধ্যে কিছু অর্থ পরিশোধ করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তার ব্যবহৃত ০১৭২৫-০৮১৩৬৫ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একাধিকবার ভবনটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হলেও তিনি তা মানছেন না। প্রভাবশালী মহলের মদদে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ভবনটি দখলে রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বারোবাজার ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ও কালীগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসান সাজ্জাদ বলেন, “পুরাতন ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবিষ্যতে সেখানে একটি আধুনিক মার্কেট নির্মাণ করে দোকান ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সরকারি রাজস্ব আয় হয়। কিন্তু বর্তমানে সেখানে গ্রাম পুলিশ জামিরুল ইসলাম প্রায় ১৭ বছর ধরে পোল্ট্রি ব্যবসা করছেন। তাকে একাধিকবার মৌখিকভাবে ভবনটি ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। কয়েকবার লিখিত নোটিশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি। সরেজমিনে ব্যবস্থা নিতে গেলে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বাধা দেন।”

বারোবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, “২০০৪ সালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তখন আমি চেয়ারম্যান ছিলাম। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম অস্থায়ী কার্যালয়ে পরিচালনা করি। পরে ২০০৫ সালে আমাদের পরিবারের দান করা জমিতে বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “পরিত্যক্ত ভবনের সামনে ও ভেতরে প্রতিদিন ব্যবসা-বাণিজ্য হয়। ফলে সেখানে মানুষের ব্যাপক সমাগম থাকে। ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। আল্লাহ না করুন, যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে বহু নিরীহ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত ভবনটি ঘিরে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা এবং সেখানে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করে নিয়ম অনুযায়ী দোকান বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। সরকারি সম্পত্তি প্রভাব খাটিয়ে দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ থাকা উচিত নয়।”

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, “ভবনটি নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমোদন সাপেক্ষে ভবনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ এবং ‘প্রবেশ নিষেধ’ সাইনবোর্ড টানানো হবে। পাশাপাশি সেখানে একটি আধুনিক ভবন নির্মাণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা ভবনটি দ্রুত অপসারণ অথবা নিরাপদভাবে ঘিরে না ফেললে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT