ঢাকা | বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেমরায় জিপসাম কারখানা বন্ধ ও স্থানন্তরে ডিএমপির ভ্রাম্যমান আদালত

author
শাকিল আহম্মেদ

প্রকাশিত : ৩ আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩
ad003
রাজধানীর ডেমরায় ক্ষতিকর জিপসাম ˆতরীর অবৈধ কারখানা বন্ধে ও দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানন্তরের জন্য ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।ডিএমপি সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল-ইমরানের নেতৃত্বে নড়াইবাগ এলাকায় পরিচালিত ওই ভ্রাম্যমান আদালতে সোমবার বিকালে কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।

এ সময় নির্বাহী ম্যাসিট্রেট ইজি পিবিসি ইন্ডাস্ট্রি নামের ওই কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে ˆবধ অনুমতিপত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হয়।তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে কারখানাটি জনবহুল আবাসিক এলাকা থেকে অন্যত্র স্থানন্তরের জন্য নির্দেশ দেন।আর পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ৬/ক, ১২(১) ধারায় কারখানা কর্তৃপক্ষকে নগদ ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কারখানা বন্ধে রয়েছে সিটি কর্পোরেশন, রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা সত্বেও  উৎপাদন চালু রাখার কারণে জরিমানা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য এলাকাবাসী জড়ো হয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে বিশেষ আবেদন জানান।এ সময় বিশৃঙ্খলা এড়াতে ডেমরা থানার ওসি মির্জা তাইফুর রহমান সহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
   
 নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল-ইমরান বলেন, জিপসাম গুঁড়া বা ধূলিকণা বাতাসে মিলে সহজেই নি:শ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে।দীর্ঘদিন এমন পরিবেশে কাজ করলে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী রোগ হতে পারে। এছাড়া জিপসামের শুকনো পাউডার চোখে গেলে তীব্র জ্বালাপোড়া ও চুলকানি হয়। ত্বকের সংস্পর্শে এলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।এদিকে কারখানায় পাউডার প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় প্রচুর ধূলিকণা বাতাসে ছড়ায়, যা আশেপাশের পরিবেশ ও বায়ুর মান নষ্ট করে। আর ভারী ধাতু সিন্থেটিক জিপসাম উৎপাদনে বা ব্যবহারে সীসা বা ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর ধাতু মাটিতে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়াও জিপসাম পাউডার দিয়ে ˆতরি উপাদান পানি ধরে রাখে এবং আর্দ্র স্থানে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।

উল্লেখ্য: রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা সত্বেও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ˆসয়দ তানভীর রায়হান নামক ব্যক্তি ওই জিপসাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।গত ২৬ জুলাই এ বিষয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। আর বানিজ্যিকভাবে রাজউকের মহাপরিকল্পনাভুক্ত এলাকায় এক তলা সেমিপাকা টিনসেড স্থাপনা করে শিল্প কার্যক্রম পরিচালনা করা বিধি-বিধান ও নগর পরিকল্পনার পরিপন্থী।এক্ষেত্রে কোম্পানির মালিক কৌশলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পাত্র আনলেও পরবর্তীতে এলাকাবাসীর অভিযোগে তা বাতিল করে শিল্পাঞ্চল এলাকায় স্থানন্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT