ঢাকা | বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকাকে ঘিরে তিন পরাশক্তির নতুন ডিপ্লোম্যাটিক সমীকরণ

author
উমর ফারুক

প্রকাশিত : ৩ আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ৩:১২
ad003
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এক সময় শুধু বঙ্গোপসাগরীয় উপকূলবর্তী একটি দেশ হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, ভারত মহাসাগরীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক যোগাযোগ, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং নতুন অর্থনৈতিক করিডোরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ফলে বিশ্ব রাজনীতির তিন প্রভাবশালী শক্তি আমেরিকা, চায়না ও ইনডিয়া ঢাকার সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক আরো গভীর করতে একযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক কয়েক মাসে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক ডিপ্লোম্যাটিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করলে সেই চিত্রই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশকে ঘিরে যে ডিপ্লোম্যাটিক সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে, সেটা কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রচলিত ধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং, এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষার রাজনীতিরই অংশ। বিশেষ করে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর আমেরিকা, চায়না ও ইনডিয়ার ধারাবাহিক উদ্যোগ থেকে বোঝা যাচ্ছে, তিন দেশই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে আগ্রহী।

এই প্রেক্ষাপটে ৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত (স্পেশাল এনভয়) এবং ইনডিয়ায় নিযুক্ত আমেরিকান এম্বাসাডর সার্জিও গরের ঢাকা সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি কোনো নিয়মিত সৌজন্য সফর নয়; বরং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক সংস্কার, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়ে ওয়াশিংটনের উচ্চ পর্যায়ের মূল্যায়নের অংশ।

সফরকালে সার্জিও গর সরকারের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আমেরিকান ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের আগে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিস্থিতি সম্পর্কেও ধারণা নেন বলে ডিপ্লোম্যাটিক সূত্র জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাচ মাসের মধ্যেই বাংলাদেশের ডিপ্লোম্যাটিক গুরুত্ব নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাংলাদেশ এখন শুধু আঞ্চলিক রাজনীতির অংশ নয়; বরং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কৌশলগত প্ল্যানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র-বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আমেরিকা, চায়না ও ইনডিয়ার সমান্তরাল ডিপ্লোম্যাটিক তৎপরতা সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিযোগিতাকে যদি বাংলাদেশ দক্ষতার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুযোগে রূপান্তর করতে পারে এবং জাতীয় স্বার্থকে অক্ষুণ্ন রেখে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করে, তাহলে দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সার্জিও গরের সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল- নতুন সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরো দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাড় করানো। বর্তমান সরকারও আমেরিকার সঙ্গে বহুমাত্রিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মনে করছে, এই সফর ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ককে আরো গভীর করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।

ডিপ্লোম্যাটিক সূত্রগুলোর মতে, সফরের আলোচনায় দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, সুশাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে আমেরিকা নতুন সরকারের সঙ্গে দ্রুত কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করে অতীতের বিভিন্ন মতপার্থক্য পেছনে ফেলে বাস্তব-ভিত্তিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দেশের অভিজ্ঞ ডিপ্লোম্যাট ও সাবেক এম্বাসাডর মসয়ূদ মান্নান (এনডিসি) বলেন, ইলেকশনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই বিশ্বের তিন প্রভাবশালী শক্তি আমেরিকা, চায়না ও ইনডিয়া সম্পর্ক আরো জোরদারে আন্তরিক আগ্রহ দেখাচ্ছে বাংলাদেশের সঙ্গে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের ডিপ্লোম্যাটিক ঘটনা-প্রবাহ সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে। তার ভাষায়, প্রধান মন্ত্রীর চায়না সফর, বৃকস সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানকে ইনডিয়ার প্রধান মন্ত্রীর বিশেষ আমন্ত্রণ এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূতের ঢাকা সফর সবগুলো ঘটনাই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের বাড়তে থাকা গুরুত্বের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

মসয়ূদ মান্নান বলেন, এই পরিবর্তিত বাস্তবতা শুধু বর্তমান সরকারের জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্যও অত্যন্ত ইতিবাচক এবং মর্যাদার বিষয়। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। তার মতে, আমেরিকা, চায়না ও ইনডিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ভারসাম্যপূর্ণ ডিপ্লোম্যাসি পরিচালনাই হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে কার্যকর পথ। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে ঘিরে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বাড়লেও ঢাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোনো একটি শক্তির দিকে ঝুকে না পড়ে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া। বর্তমানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির অন্যতম ভিত্তিও এই ভারসাম্যের নীতির ওপর দাড়িয়ে আছে। তার মতে, বাংলাদেশ এখন এমন এক অবস্থানে পৌছেছে, যেখানে বড় শক্তিগুলো প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহযোগিতার ক্ষেত্রও খুজছে। ফলে এই নতুন বাস্তবতায় কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে ঢাকার সবচেয়ে বড় ডিপ্লোম্যাটিক চ্যালেঞ্জ।

ডিপ্লোম্যাট বিশ্লেষক মাসরুর মাওলার মতে, সার্জিও গরের ঢাকা সফরকে শুধুমাত্র একটি দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, দক্ষিণ এশিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের অবস্থানকে নতুন করে মূল্যায়নের বৃহত্তর কৌশলগত প্রক্রিয়ারই অংশ এটি। তিনি বলেন, বর্তমানে চায়নার অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা, ইনডিয়ার নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংযোগ-ভিত্তিক সহযোগিতা এবং আমেরিকার রাজনৈতিক ও কৌশলগত আগ্রহ এই তিনটি প্রবণতা একই সময় বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে দৃশ্যমান হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ এখন কেবল ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নয়, বরং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

মাসরুর মাওলার মতে, সার্জিও গরের সফরের সময়টিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর আগে বাংলাদেশ চায়নার সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা এগিয়ে নিয়েছে। একই সময় ইনডিয়াও বিদ্যমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরো সম্প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। সংযোগ, জ্বালানি, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা সহযোগিতাকে নতুন মাত্রায় নেয়ার উদ্যোগও জোরালো হয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে তিন পরাশক্তির ডিপ্লোম্যাটিক তৎপরতা এখন আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দৃশ্যমান।

পর্যবেক্ষকদের মতে, তিন দেশের অগ্রাধিকার ভিন্ন হলেও লক্ষ্য একটাই বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল অংশীদারত্ব গড়ে তোলা। চায়না দীর্ঘদিন ধরেই বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, বৃজ, টানেল, শিল্পায়ন এবং বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ করে আসছে। এই অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততাকে আরো বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে বেইজিং। আবার ইনডিয়া দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে ভিত্তি করে বিদ্যুৎ, রেল, সড়ক, নৌ-পথ ও সীমান্ত সংযোগ জোরদারের পাশাপাশি নিরাপত্তা সহযোগিতাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। দিল্লির লক্ষ্য, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সংযোগের কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশকে আরো কার্যকরভাবে যুক্ত করা।

আবার আমেরিকার অগ্রাধিকার কিছুটা ভিন্ন। ওয়াশিংটনের আগ্রহ মূলত বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমমান উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং উচ্চ মূল্যের বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে। পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকা আরো শক্তিশালী করার বিষয়টিও ওয়াশিংটনের বিবেচনায় রয়েছে।

সাম্প্রতিক ডিপ্লোম্যাটিক ঘটনা-প্রবাহে চায়নার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরে চায়নার প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ওই সফর ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

চায়না সফরের অল্প সময়ের মধ্যেই ইনডিয়ার পক্ষ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ডিপ্লোম্যাটিক বার্তা আসে। আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম বৃকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য ইনডিয়ার প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানান। ডিপ্লোম্যাটিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের কিছু শীতলতার পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ককে আরো ইতিবাচক ও গতিশীল করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই আমন্ত্রণকে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা জনসংখ্যা নয়; বরং কৌশলগত অবস্থান এবং দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতি। এই নীতিকে সামনে রেখে যদি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমেরিকা, চায়না ও ইনডিয়ার সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়া যায়, তাহলে পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতাই বাংলাদেশের জন্য বড় অর্থনৈতিক ও ডিপ্লোম্যাটিক সুযোগে পরিণত হতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানও বাংলাদেশ-আমেরিকা সম্পর্কের বর্তমান অবস্থানকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, দুই দেশের সম্পর্ক এখন খুবই ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে এবং উভয় পক্ষই বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো জোরদারে আগ্রহী। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ও আমেরিকার মধ্যে চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিদ্যমান। কিভাবে এই সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেয়া যায়, সে বিষয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, অভিবাসন, রোহিঙ্গা সংকট এবং জাতি সংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের আসন্ন সভাপতিত্বের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরো বলেন, আলোচনায় বাংলাদেশের সঙ্গে চায়না কিংবা ইনডিয়ার সম্পর্ক নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। একই সঙ্গে মিয়ানমারে মানবিক করিডোর স্থাপনের বিষয়ে আমেরিকা কোনো প্রস্তাব দিয়েছে এমন খবরও সঠিক নয়। 

আবার আমেরিকান এমবাসি জানিয়েছে, সার্জিও গরের এই সফর বাংলাদেশ ও আমেরিকার দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরো সুদৃঢ় করেছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আমেরিকা তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বলেও এম্বাসি উল্লেখ করেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় সুযোগ এবং সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দুটিই একই সঙ্গে উপস্থিত। এক দিকে আমেরিকা, চায়না ও ইনডিয়ার ক্রমবর্ধমান আগ্রহ বিদেশি বিনিয়োগ, বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। আবার পরাশক্তিগুলোর স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করাও হয়ে উঠছে ক্রমেই জটিল। তবে বিশ্লেষকদের অভিমত, স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যদি বাংলাদেশ জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে এই প্রতিযোগিতা কোনো চাপ নয়; বরং আগামী দিনের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করার এক বিরল সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। এ কারণেই এখন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে শুধু বাংলাদেশের গুরুত্বই বাড়ছে না, একই সঙ্গে ঢাকাকে ঘিরে বিশ্বের প্রভাবশালী শক্তিগুলোর ডিপ্লোম্যাটিক সমীকরণও দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT