জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা লালন এবং জুলাইয়ের স্মৃতি ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের উদ্যোগে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভার শুরুতে বক্তারা ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক সমাজের অংশগ্রহণ, আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা, শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং সরকার পতনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদ বলেন, “আমাদের সবার চোখের সামনে ঘটে যাওয়া একটি অভূতপূর্ব বিপ্লব হলো জুলাই বিপ্লব। আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে এই দিনেও আমরা অনেকেই রাজপথে ছিলাম। ৩ আগস্ট বৃষ্টির মধ্যেও রেলগেট পর্যন্ত গিয়ে হাজারো মানুষের উপস্থিতি দেখেছি। কোলের শিশু নিয়ে মায়েরাও সেখানে ছিলেন। দলমত-নির্বিশেষে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ছিল জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাবীবুর রহমান বলেন, “বিগত সময়ে আমরা নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। জুলাই আন্দোলনের সময় আমাদের বক্তব্যের ছবি দেখে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দেওয়ার জন্য ফোন করা হয়েছিল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার নজর এড়িয়ে আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে। আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “জুলাই নিয়ে আমার এমন কিছু স্মৃতি আছে, যা আমি আগে কাউকে বলিনি। খুন, গুম ও হত্যার সংস্কৃতির কারণেই এই জুলাই সংঘটিত হয়েছিল। জুলাই-পরবর্তী সময়ে একটি গোষ্ঠী নতুন ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে, যা কাম্য নয়। ১৯৭১-কে কুক্ষিগত করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ যেমন শেষ হয়ে গেছে, জুলাইকে কুক্ষিগত করতে চাওয়া গোষ্ঠীরও একই পরিণতি হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গত ১৭ মাসে জাতীয়তাবাদী আদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষকদের কোনো কমিটি বা প্রশাসনিক দায়িত্বে রাখা হয়নি। বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। আমাদের সঙ্গে রাস্তার কুকুরের মতো আচরণ করা হয়েছে।”
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমীরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সাদিক। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফজলুল হক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামান, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রাবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।