ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোরী কাণ্ডে সালিসে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপনের ৫ লাখ জরিমানা

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৪ আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৬
ad003
নেত্রকোণার আলোচিত স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য সালিসে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

একই সঙ্গে তাকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সালিসের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার রাতে নেত্রকোণা সদর উপজেলার দক্ষিণবিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামে স্থানীয় মাতব্বরদের উপস্থিতিতে এ সালিস অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার সকালে সালিসের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় আসে। খবর পেয়ে দুপুরে নেত্রকোনা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নন্দুরা গ্রামের বাসিন্দা রিপন মিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন। তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী দীর্ঘদিন ধরে তার কনটেন্ট তৈরির কাজে সহযোগিতা করতেন। সেই সূত্রে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। 

পরে তাদের সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়। কয়েকদিন আগে স্থানীয় কয়েকজন তাদের অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখেছেন বলে দাবি করেন। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনার পর সোমবার রাতে স্থানীয় বাজারে গ্রাম্য সালিস বসে। সালিসে উপস্থিত মাতব্বররা কিশোরীর ভবিষ্যৎ বিবেচনায় রিপন মিয়াকে এক সপ্তাহের মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে তার বসতবাড়ি কিশোরীর নামে লিখে দেওয়ার কথাও বলা হয়। পাশাপাশি তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।


মঙ্গলবার সকাল থেকে রিপন মিয়াকে এলাকায় দেখা যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, সালিসের পর তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন।

সালিসে উপস্থিত স্থানীয় মাতব্বর মুখলেছুর রহমান দৌলত বলেন, "রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে সালিস বসেছিল।

আলোচনার সময় সে অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে উপস্থিতদের সামনে জানায়। পরে কিশোরীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তাকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা না দিলে তার বাড়ি কিশোরীর নামে লিখে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।"

দক্ষিণবিশিউড়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল হক বলেন, "ঘটনার কথা শুনেছি। তবে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত আমার জানা নেই।"

নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, "ঘটনার বিষয়ে সালিসে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত তথ্য জানার চেষ্টা করছি। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সঙ্গেও কথা বলা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনার অভিযোগ আইনি পক্রিয়া  ছাড়া  গ্রাম্য সালিসে নিষ্পত্তির কোনো সুযোগ নেই।"

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে পুলিশ বলছে, অভিযোগের সব দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT