২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা, আত্মত্যাগ এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে সুরের মূর্ছনায় ধারণ করতে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে "গানে গানে জুলাই" শীর্ষক আলোচনা ও সংগীতানুষ্ঠান।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি, রাজশাহীর ব্যবস্থাপনায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতা করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) বেলায়েত হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা কালচারাল অফিসার ড.ফারুকুর রহমান ফয়সল। এছাড়াও বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমির পরিচালক হরেন্দ্রনাথ সিং, রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অরণ্য কুসুম এবং জাসাস রাজশাহী মহানগরের সদস্য সচিব সেলিম রেজা।
প্রধান অতিথি বেলায়েত হোসেন বলেন, "জুলাই অভ্যুত্থান কেবল একটি আন্দোলন নয়, এটি ছিল মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস পৌঁছে দিতে সংস্কৃতি ও সংগীত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"
স্বাগত বক্তব্যে ফারুকুর রহমান ফয়সল বলেন, "জুলাইয়ের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও দেশপ্রেমকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন। সংস্কৃতির মাধ্যমে ইতিহাসকে জীবন্ত করে রাখাই আমাদের উদ্দেশ্য।"
হরেন্দ্রনাথ সিং বলেন, "শিল্প-সংস্কৃতি মানুষের চেতনা জাগ্রত করে। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সাংস্কৃতিক আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
অরণ্য কুসুম বলেন, "জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। তাঁদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।"
সেলিম রেজা বলেন, "গান, কবিতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে জুলাইয়ের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে তারা মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে।"
আলোচনা শেষে জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দেশাত্মবোধক ও প্রেরণাদায়ী সংগীত পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিল্পী, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ উপস্থিত ছিলেন।