ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ভুয়া বিজিবি পরিচয়ে ডাকাতি ও ছিনতাই

যশোর ডিবি পুলিশের অভিযানে আটক ৩ ভুয়া সদস্য একদিনেই জামিনে মুক্ত!

author
বেনাপোল প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৪ আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫
ad003
যশোরের শার্শা উপজেলায় নিজেদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল একটি চক্র। সম্প্রতি যশোর শহরের ষষ্ঠিতলা এলাকায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি সফল অভিযানে বিজিবির পোশাক, হাতকড়া, ওয়াকিটকি ও দেশীয় অস্ত্রসহ তিন সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তবে গ্রেফতারের মাত্র একদিনের ব্যবধানে তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরে আসায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ১ আগস্ট (শনিবার) রাত ১১টা ১০ মিনিটে যশোর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ষষ্ঠিতলা এলাকায় রবীন্দ্রনাথ রাহার বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ভাড়া বাসায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।

যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের এসআই কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বাড়ির লোকজনের উপস্থিতিতে এই অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ওই ভাড়া বাসায় অভিযান চালালে দরজা খুলে এক ব্যক্তি নিজেকে বিজিবির সদস্য বলে দাবি করেন। ঘরের ভিতরে থাকা বাকি দুজনও নিজেদের একই বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। তাদের আচরণ ও কথাবার্তায় সন্দেহ হলে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে তারা স্বীকার করেন যে তারা মূলত ভুয়া বিজিবি সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে এই ছদ্মবেশে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাই চালিয়ে আসছিলেন।

আটক কৃতরা হলো শার্শার গোগা গ্রামরে আবুল কাশেমের ছেলে উজ্জল হোসেন (৩০) একই ইউনিয়ন এর হরিশচন্দ্রপুর গ্রামের কাশেম আলীর ছেলে আনারুল ইসলাম (৩২) গোলাম মোস্তফার ছেলে তোফাজ্জেল হোসেন।  

গ্রেফতারের মাত্র একদিনের মাথায় আসামিরা জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরে আসায় স্থানীয়রা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, সরকারি পোশাক ও অস্ত্রসহ আটকের পর এত দ্রুত জামিন পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। তারা এতদিন অন্য এলাকায় ডাকাতি ও বিজিবি সদস্য সেজে অপরাধমূলক কাজ করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। একদিনের মধ্যে জামিন পাওয়ায় তাদের অপরাধের স্পর্ধা আরও বেড়ে গেছে। এলাকাবাসী আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, "এরা এবার এলাকার মানুষের গলায় ছুরি বসাবে না তার নিশ্চয়তা কী?"

 গোগা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বলেন, "এরা নিজ এলাকায় এসব অপকর্ম করে না, অন্য এলাকায় গিয়ে এসব কাজ দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে বলে শুনেছি। এদের স্পর্ধা দেখে আমি অবাক! প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর পদপে নেওয়া উচিত।"

 এলাকার জনৈক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, "আব্দুল হামিদ এদের তদবির করে ছাড়িয়ে এনেছেন। তিনি গোগা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।" তবে এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত নেতা আব্দুল হামিদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত পুনরায় গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT