দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং হাসপাতালে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক’ (ইউটিএল)। একই সাথে এসব ঘটনার জন্য জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে দায়ী করে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ইউটিএলের সভাপতি অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. যুবাঈর মুহাম্মদ এহসান স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে এই অবস্থান ব্যক্ত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৩ আগস্ট ও ৪ আগস্ট দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় সহিংস ঘটনা ঘটে। এসব স্থানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ছাত্রসংসদ নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ তোলে ইউটিএল।
সংগঠনটির অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় আহত শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও ছাত্রদলের কর্মীরা হামলা চালায় এবং হাসপাতাল অবরুদ্ধ করে রাখে। আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়ে ইউটিএলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক ছাত্রদলের কর্মীদের হাতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
বিবৃতিতে শিক্ষাবিদরা স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মূলত মুক্তচিন্তা, জ্ঞানচর্চা, মতপ্রকাশ এবং গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের জায়গা। রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয়ের জেরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ইউটিএলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এসব সহিংসতার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপদ, সহনশীল ও ভীতিমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার দাবি তুলে ধরা হয়।
সহিংসতার বদলে সংলাপ, যুক্তি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেকোনো মতপার্থক্য সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়— রাষ্ট্র, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।