ঢাকা | বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পলাতক আসামি হয়েও দোকানে বকুল, হাওরে স্পিরিটের নতুন সিন্ডিকেট!

author
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ৬ আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:১০
ad003
মাদক মামলায় কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েই আবারও রেকটিফাইড স্পিরিটের কারবারে সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোণার মোহনগঞ্জের বকুল চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে। 

এবার শুধু মোহনগঞ্জ নয়, তার নাম উঠে এসেছে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া একটি স্পিরিট সরবরাহ চক্রের সঙ্গে। ধর্মপাশা থানায় দায়ের করা মাদক মামলার এজাহারে তাকে রেকটিফাইড স্পিরিটের ‘মূল ডিলার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুই আসামির জিজ্ঞাসাবাদে বকুল চন্দ্র সরকারের নাম উঠে আসে। পরে তাকে ওই মামলায় আসামি করা হয়। তবে তিনি বর্তমানে পলাতক থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, মোহনগঞ্জ শহরে নিজের হোমিওপ্যাথি দোকানে প্রকাশ্যেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের দাবি, বকুলকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি এই মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা অর্থদাতা ও সহযোগীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না হলে হাওরাঞ্চলে রেকটিফাইড স্পিরিটের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হবে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কান্দাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সজল মজুমদার (৩৪) ও তার স্ত্রী মর্জিনা আক্তারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ধর্মপাশা থানার এসআই মো. শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাদের বাড়ি থেকে সাড়ে তিন কেজি গাঁজা ও নগদ ১৮ হাজার ৮০৯ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরে গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাওরের পানিতে প্লাস্টিকের বস্তায় ডুবিয়ে রাখা অবস্থায় ২২০ বোতল রেকটিফাইড স্পিরিট উদ্ধার করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে সজল মজুমদার দাবি করেন, তাদের কাছে মোট ২৫০ বোতল স্পিরিট ছিল। এর মধ্যে ৩০ বোতল বিক্রি করা হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া স্পিরিটের মূল সরবরাহকারী মোহনগঞ্জ পৌরশহরের তুলাপট্টি এলাকার বকুল চন্দ্র সরকার। তার সহযোগী হিসেবে মোহনগঞ্জ উপজেলার আজমপুর এলাকার আলাল উদ্দিন সজিবের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

বকুল চন্দ্র সরকার (৪৫) সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বৃষ্ণপুর গ্রামের মুকুল চন্দ্র সরকারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দেওথান এলাকায় বসবাস করছেন।

শহরের তুলাপট্টি এলাকায় ‘রিপন হোমিও’ নামে একটি দোকান পরিচালনা করেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, হোমিওপ্যাথি ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে রেকটিফাইড স্পিরিটের অবৈধ কারবার চালিয়ে আসছিলেন বকুল।

এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ওই দোকান থেকে ১২৮ বোতল রেকটিফাইড স্পিরিট উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কয়েক মাস কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জামিনে বের হওয়ার পর বকুল আগের কৌশল পরিবর্তন করে হাওরাঞ্চলে স্পিরিট সরবরাহের নেটওয়ার্ক বাড়িয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায়ও তাকে মোহনগঞ্জের দোকানে দেখা গেছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

পাশের দোকানের হোমিও চিকিৎসক সাগর সরকার বলেন, “প্রতিদিনই বকুলকে দোকান খুলতে দেখি। গতকাল সন্ধ্যাতেও তাকে দোকানে দেখেছি। তিনি যদি পলাতক আসামি হন, তাহলে প্রকাশ্যে ব্যবসা করছেন কীভাবে, সেটি বুঝতে পারছি না।”

মোহনগঞ্জ শহরের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, “শুধু বকুলকে গ্রেপ্তার করলে হবে না। তার সঙ্গে যারা অর্থ, প্রভাব ও সহযোগিতা দিয়ে রয়েছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বকুলকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই চক্রের প্রকৃত হোতাদের পরিচয় বেরিয়ে আসতে পারে। নেপথ্যের লোকজন ধরা না পড়লে হাওরাঞ্চলের তরুণ সমাজ মাদকের ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে।”

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্যা বলেন, “গাঁজা ও রেকটিফাইড স্পিরিটসহ দুইজনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বকুল চন্দ্র সরকারের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

তিনি এর আগেও মোহনগঞ্জে স্পিরিটসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT