ঢাকা | বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণেও কেন দুর্নীতি-লুটপাটের উৎসব!

author
আহসান হাবিব বরুন

প্রকাশিত : ৬ আগস্ট, ২০২৬ বিকেল ৫:৪১
ad003
দুনিয়া কাঁপানো ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত জুলাই স্মৃতি জাদুঘরটি গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করেছেন।

আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে এটি অত্যন্ত আনন্দের একটি অনুষঙ্গ। কিন্তু এই স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণের পেছনে লুকিয়ে আছে এক ভয়ঙ্কর লুটপাটের চিত্র।

রক্তের দাগ তখনও শুকায়নি।
হাজারো তরুণের আত্মত্যাগ, অগণিত মানুষের পঙ্গুত্ব এবং একটি পুরো জাতির চরম মূল্য চুকিয়ে অর্জিত ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনা যখন বাতাসে ভাসছে—ঠিক তখনই সেই পবিত্র স্মৃতির ওপর দাঁড়িয়ে রচিত হলো এক নজিরবিহীন দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের আখ্যান। ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্মৃতি চিরস্মরণীয় করে রাখতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করার যে মহৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা আজ শ্রদ্ধার স্মারক হওয়ার বদলে লুটপাট আর রাষ্ট্রীয় তহবিল অপচয়ের এক জঘন্য মহোৎসবের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

যে বিপ্লবের মূল সুর ছিল ফ্যাসিবাদের বিলোপ, সামাজিক ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা;
সেই বিপ্লবের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণেই যখন নগ্ন অনিয়ম, জালিয়াতি এবং আর্থিক হরিলুটের আশ্রয় নেওয়া হয়, তখন তা কেবল শহীদদের রক্তের সাথেই বিশ্বাসঘাতকতা নয়, বরং পুরো জাতির সঙ্গে এক নির্মম প্রহসন।

একটি প্রকল্প যার আনুমানিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ১৩০ কোটি টাকা, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনগণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার আগেই অদূরদর্শিতা, স্বচ্ছতার চরম অভাব এবং প্রশাসনিক অনিয়মের উদাহরণ হয়ে উঠে।

নথিপত্র এবং সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয় যে, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ কেবল একটি পরিকাঠামো বা স্মারক তৈরির কাজ ছিল না; এটি পরিণত হয়েছিল কতিপয় সুবিধাবাদী ব্যক্তি, আমলা, উপদেষ্টা ও তাদের বলয়ের পকেট ভরার অবাধ চারণভূমিতে।

জাদুঘর সাধারণ মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে উন্মুক্ত করার আগেই দু-দুবার ‘উদ্বোধন’-এর প্রশাসনিক মহড়া দেওয়া হয়েছে। আর এই প্রতিটি মহড়াকে কেন্দ্র করে ব্যয় দেখানো হয়েছে কোটি কোটি টাকা।

আইবাস++ (iBAS++) এবং জাতীয় জাদুঘরের তহবিল পর্যালোচনায় যেসব তথ্য উন্মোচিত হয়েছে, তা যেকোনো সচেতন নাগরিককে স্তম্ভিত করার জন্য যথেষ্ট।

জাদুঘরের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার আগেই চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রধান উপদেষ্টার আগমন ও কথিত উদ্বোধন অনুষ্ঠান দেখিয়ে খাবার, শ্রম ও স্টেশনারি খাতে তোলা হয়েছে ৮০ হাজার ৫৪৫ টাকা।

এর ঠিক এক মাস পর, ফেব্রুয়ারিতে আবারও একই পরিচ্ছন্নতা ও আসবাবপত্র স্থানান্তরের নামে পকেটস্থ করা হয়েছে আরো
১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা।

আশ্চর্যের বিষয় হলো,
প্রকল্পের জন্য আলাদা কোটি কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের করের টাকায় পরিচালিত জাতীয় জাদুঘরের নিজস্ব মূল তহবিল থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে।

নথিপত্রের হিসাব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, 
সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা, ভলান্টিয়ার, কর্মকর্তা ও শ্রমিকের দুপুরের খাবার এবং বিকেলের নাস্তার নামে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে!

দিনের পর দিন খাবারের নামে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ভাউচার বানিয়ে সপ্তাহ শেষে ৫০ হাজার টাকার ভুয়া বিল তোলার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তার শিকার হয়েছে মোহাম্মদপুরের ‘আড্ডা প্রবর্তনা রেস্টুরেন্ট’-এর মতো সাধারণ প্রতিষ্ঠানও।

সংবাদমাধ্যমের সরেজমিন অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে, যে রেস্টুরেন্টের দিনে লাখ টাকার খাবার জোগানের কোনো সক্ষমতাই নেই, যাদের দৈনিক হাজার টাকার অর্ডারে খুশি থাকার কথা—তাদের নাম ভাঙিয়ে তোলা হয়েছে ১০ লাখ ২৮ হাজার টাকারও বেশি! এমনকি বিভিন্ন কর্নার উদ্বোধনের নামে একদিনেই উক্ত রেস্টুরেন্টের ব্যানারে ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকার নাস্তার ভুয়া বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

রেস্টুরেন্টের কর্মীরাও বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে দৈনন্দিন সাধারণ কিছু নাস্তা নেওয়া হলেও এই বিপুল অঙ্কের বিলের হিসাব তাদের জানা নেই। এটি কেবল অনিয়ম নয়, এটি স্পষ্ট জালিয়াতি।

স্বেচ্ছাসেবীদের আপ্যায়নের নামে ৫৭ লাখ টাকা, একদিনের এক বিদেশী মেহমানের (আইসেস্কো প্রধান) আপ্যায়ন খরচ ৭০ হাজার টাকা, আর মাত্র ২৫ দিনে ভিভিআইপি আপ্যায়ন ও ইন্টারনেটের নামে ২৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা লোপাটের যে খতিয়ান সামনে এসেছে—তা কোনো স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থার পরিচয় দেয় না।

জাদুঘর নির্মাণের শুরু থেকেই ছিল আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করার প্রবণতা।
কোনো প্রকার স্বচ্ছতা ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (PPR) অনুসরণ না করে মৌখিক আদেশের ওপর ভিত্তি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান
‘দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং’ এবং ‘এম এন হুদা’-কে কোটি কোটি টাকার কাজ সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে বিতর্ক এড়াতে ও প্রশাসনিক ফাঁকফোকর ঢাকতে পেছনের তারিখে টেন্ডার ডেকে অন্য কোম্পানির নামে সেই কাজ দেখানোর অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, যা নজিরবিহীন।

গণভবনের চারপাশ কেবল টিনের বাউন্ডারি দেওয়ার নামে জাতীয় জাদুঘর থেকে তোলা হয়েছে ৬৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, আবার অন্যদিকে পিডব্লিউডি সংক্রান্ত তথ্যে দেখানো হয়েছে দেড় কোটি টাকার খরচ।

বিনা টেন্ডারে আসবাবপত্র, অফিস সরঞ্জাম ও ক্রোকারিজ সরবরাহের নামে ৩ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার ৯১৯ টাকা এবং প্রতীকী আয়নাঘর নির্মাণের নামে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা প্রমাণ করে—জুলাইয়ের রক্তস্নাত অধ্যায়কেও আর্থিক লাভের মাধ্যম বানানোর চেষ্টা হয়েছিল।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘প্রতীকী আয়নাঘর’ ও অন্যান্য ভাস্কর্য নির্মাণের প্রক্রিয়াতেও স্বচ্ছতার চরম ঘাটতি স্পষ্ট।

সিভিল ও ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল (ই/এম) কাজের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে সিভিল কাজে ৭০ কোটি এবং ই/এম কাজে ৪০ কোটি—মোট ১১১ কোটি ১৯ লাখ টাকার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে তা সংশোধন করে ৯৭ কোটি ৩১ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯টি ডকুমেন্টারি নির্মাণ এবং প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাস্কর্য ও ফটো আর্কাইভিংয়ের কাজের সঠিক অডিট হওয়া আজ অত্যন্ত জরুরি।

এই পুরো অনিয়মের বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং জাদুঘরের তৎকালীন পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের প্রাক্কালে প্রকাশিত সম্পদ বিবরণী একটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সরকারি সেই হিসাব অনুযায়ী, সাবেক উপদেষ্টা ফারুকীর স্ত্রী, অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২৪ সালের জুনে তিশার মোট সম্পদ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা, যা ২০২৫ সালের জুনে গিয়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তাঁর সম্পদ বেড়েছে প্রায় ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

যেখানে দৃশ্যমান কোনো বড় প্রজেক্ট বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বড় ধরনের আয় বা কাজ ছিল না, সেখানে অল্প সময়ে এই বিপুল সম্পদ ও নগদ অর্থ বৃদ্ধির মূল উৎস কী, তা নিয়ে জনমনে ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়।

এর পাশাপাশি যোগ হয়েছে তাদের রাজনৈতিক ইতিহাস ও ভূমিকার বৈপরীত্য। নুসরাত ইমরোজ তিশা ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল পরিচালিত ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ চলচ্চিত্রে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের (রেনু) চরিত্রে কেন্দ্রীয় অভিনয় করে তৎকালীন ক্ষমতা কাঠামোর প্রত্যক্ষ আশীর্বাদপুষ্ট হয়েছিলেন।

পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর স্বামী মোস্তফা সরয়ার ফারুকী রাতারাতি ‘বিপ্লবের শুভানুধ্যায়ী’ সেজে সংস্কৃতি উপদেষ্টার পদে আসীন হন। আর তার আমলেই শহীদদের স্মৃতিসৌধকে পরিণত করা হয়েছিল চরম লুটপাটের প্রজেক্টে।

প্রতিদিন সাধারণ মানুষের টাকায় ৫৬ হাজার টাকার নাস্তা উদরপূর্তি করা এই উপদেষ্টার আমলেই নাকি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে বিপুল অর্থের পাহাড়।

আমাদের অত্যন্ত দুর্ভাগ্য যে, এই চরম বিতর্কিত ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি আজ জেলহাজতে থাকার বদলে, কিংবা অন্তত নিরপেক্ষ তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার বদলে—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লম্বা লম্বা পোস্ট দিয়ে দেশের সরকার ও প্রধান রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ‘সবক’ দিয়ে যাচ্ছেন!

গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার দেওয়া পোস্টটি যদি বিশ্লেষণ করা হয়, তবে সেখানে এক চতুর ও অহংকারী মানস-মানচিত্র ফুটে ওঠে। নিজেকে ‘রাঁধুনী’ হিসেবে দাবি করে তিনি মিউজিয়ামের কিউরেশন, ‘লং ওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ কিংবা ‘৭২ থেকে ৭৫’-এর ইতিহাস তুলে ধরার নামে যে ভাষণ দিচ্ছেন, তা মূলত নিজের ও তার দোসরদের অপকর্ম ও ব্যর্থতা ঢাকার এক চতুর চেষ্টা মাত্র। যে ব্যক্তি প্রকল্পের শত কোটি টাকার অনিয়ম ও ভুয়া বিলের জবাব দিতে গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে রাজি হন না, তিনিই আবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের দোহাই দিয়ে মিউজিয়াম এক্সপ্লেইনার নিয়োগের নসিহত দেন!

আজ দেশ এক নতুন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেখানে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের বার্তা দিচ্ছেন (যেমন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মধ্যাহ্নভোজে পরিমিত ব্যয় বজায় রাখা), সেখানে তাঁর আমলে বা তাঁর পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে শুরু হওয়া এই ‘লুটেরা প্রশাসনিক সংস্কৃতির’ অবশিষ্টাংশ বহন করা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

ফারুকী বা তাঁর সহযোগীরা যতই রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রশংসা করে নিজেদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দুর্নীতি ঢাকতে চান না কেন—সেই চাটুকারিতার ফাঁদে পা দেওয়া রাজনৈতিক বা নৈতিক কোনো দিক থেকেই সমীচীন হবে না।

আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে উদাত্ত দাবি রাখছি:

১.
প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত—বিশেষ করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব এবং পর্ষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মেয়াদের প্রতিটি বিল-ভাউচার, ব্যাংক হিসাব এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ার ওপর অবিলম্বে মহাহিসাব-নিরীক্ষক (CAG) ও স্বাধীন অডিট টিম দিয়ে স্পেশাল অডিট করাতে হবে।

২. দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সামাজিক বা বুদ্ধিজীবী পরিচয় বিবেচনা না করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় আনতে হবে। ভুয়া বিল উত্তোলন ও সরকারি ফান্ডের জালিয়াতির প্রমাণ মিললে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।

৩. জুলাই  আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর নির্মিত এই স্মৃতিসৌধকে কোনো অবস্থাতেই দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নাম বা অনিয়মের সাথে যুক্ত থাকতে দেওয়া যাবে না। যদি স্মৃতি জাদুঘরের ভিত্তিরূপেই দুর্নীতির বিষবাষ্প থাকে, তবে তা শহীদদের আত্মার সাথে চূড়ান্ত প্রতারণা হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত থাকবে।

পরিশেষে বলতে চাই, জুলাই আন্দোলনের বীর শহীদ ও আহতরা আমাদের কাছে একটি আমানত। তাঁদের আত্মত্যাগের স্মারক যদি অনিয়মের চারণভূমি হয়, তবে ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উচিত অবিলম্বে প্রশাসনিক সংস্কার ও বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরকে অনিয়মের কলঙ্ক থেকে মুক্ত করা ও গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় পুনপ্রতিষ্ঠিত করা।

লেখক: সাংবাদিক,
কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
ই-মেইল: [email protected]
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT