দীর্ঘ প্রায় আট বছর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগকে ঘিরে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আশাবাদ। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি কার্যকর, গতিশীল ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন তারা। একই সঙ্গে গঠনতন্ত্র, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়ে। সম্প্রতি নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি হয়েছে। নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, যোগ্য ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনটি আবারও শিক্ষার্থীদের অধিকার, কল্যাণ এবং ক্যাম্পাসভিত্তিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
নেতাকর্মীদের মতে, ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রাধান্য নিশ্চিত করা হলে সংগঠনের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও অংশগ্রহণমূলক হবে। এতে শিক্ষার্থীদের সমস্যা, দাবি-দাওয়া এবং ক্যাম্পাসের বাস্তবতা আরও কার্যকরভাবে নেতৃত্বের মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা বলেন, “ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সামনে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এসেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে ত্যাগী, সক্রিয় এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আনতে হবে। তাহলেই সংগঠন আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর হবে।”
তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় থাকা সাধারণ কর্মীদের প্রত্যাশা যোগ্যতা, ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং গঠনতান্ত্রিক নীতিমালার ভিত্তিতেই নতুন কমিটি গঠন করা হবে। এতে সংগঠনের অভ্যন্তরে ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশের পথও প্রসারিত হবে।
সম্ভাব্য নেতৃত্বে আলোচনায় রয়েছেন ডা. আব্দুল্লাহ আর রায়হান ও ডা. মেশকাত শরীফ ভূঁইয়া। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলফাজ হোসেন সিহাব, আব্দুর রাজ্জাক, সাকিবুল হাসান, রোকনোজ্জামান, মুনশায়ির রহমান,মাহিন আব্দুল্লাহ, সিয়াম, পারভেজ, প্রত্যয়, তানমিম লাবিব, সহ অনেকেই।
তবে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল স্বচ্ছতা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও গঠনতান্ত্রিক বিধান অনুসরণ করে একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি ঘোষণা করবে। তাদের বিশ্বাস, শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক নেতৃত্বের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদল আবারও ক্যাম্পাসে শক্তিশালী ও সক্রিয় সাংগঠনিক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে এবং ছাত্ররাজনীতিতে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।