ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই ৩৬ হলের এক আবাসিক ছাত্রীর বিরুদ্ধে গোপনে একাধিক ছাত্রীর অশালীন ভঙ্গিতে ছবি তুলে বয়ফ্রেন্ডকে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ছাত্রীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এবং হল প্রশাসন ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সাথে একাধিক ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। তাদের মধ্যে লন্ডনপ্রবাসী এক ছেলেকে গোপনে সে বিভিন্ন সময় হলের মেয়ের ছবি তুলে পাঠাতো। কারো ঘুমানো ছবি, কারো বসে থাকা ছবি অর্থাৎ রুমে অবস্থানকালীন ব্যক্তিগত সময়ের ছবি তুলে পাঠানো হয়েছে।
এরমধ্যে যেসব মেয়ে বাইরে বোরকা পড়ে, নেকাব করে বের হতো, তাদেরও বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি তোলে সে। একপর্যায়ে লন্ডন প্রবাসী সেই ছেলের সাথে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়।
বিয়ের প্রস্তাব গ্ৰহণ না করায় ওই ছেলে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত ছাত্রীর উপর প্রতিশোধ নিতে তার কাছে থাকা বিভিন্ন মেয়েদের ছবি এবং তাদের নিজেদের ঘনিষ্ঠ মুহুর্তের ছবি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে তার পরিচিত হলের অন্যান্য মেয়েদের কাছে অনলাইনে পাঠাতে থাকেন বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা।
এরপর আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে জুলাই ৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম শামছুল হক ছিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে জানানো হয়। এছাড়া তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তের ব্যক্তিগত ব্যবহৃত ২ টি ফোন তদন্ত কমিটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। পাশাপাশি তার বাবাকে ডেকে পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে হল প্রশাসন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে আছেন হলটির আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তার এবং সদস্য হিসেবে আছেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা: খাইরুল ইসলাম ও হলটির আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহা: কামরুজ্জামান।
এ বিষয়ে জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, গতকাল রাতভর ঘটনার ব্যাপারে শুনেছি এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত ছাত্রীকে সাময়িকভাবে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বলেন, আমার বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করেছে, তাদের অবশ্যই অভিযোগ করার অধিকার আছে। আমি যে কাজটি করেছি, সেটা আমি ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ থেকে করিনি। তারা সকলে আমার বান্ধবী। এমনকি যে ছেলেটির সঙ্গে আমার কথা হতো, তার সঙ্গে তাদেরও কথা হতো। আমি স্বীকার করছি আমার ভুল হয়েছে। এটার জন্য আমি যদি শাস্তি পাই, সেটা আমি মাথা পেতে নেবো। কিন্তু আমার অনুরোধ থাকবে, আমার ক্যারিয়ারটা যেন ধ্বংস না হয়।