এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার মধ্যে পাশের হারে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে নেত্রকোণা। এ জেলায় এবার গড় পাশের হার ৬০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জেলার ফলাফলের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের প্রতিষ্ঠিত কেন্দুয়ার শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ। এ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৬ জন শিক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভাগের মধ্যে নেত্রকোনায় পাশের হার ৬০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অন্যদিকে ময়মনসিংহ জেলায় ৫৭ দশমিক ৮০ শতাংশ, জামালপুরে ৫৫ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং শেরপুরে ৫৫ দশমিক ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। ফলে জেলা ভিত্তিক ফলাফলে নেত্রকোণা সবার ওপরে রয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নেত্রকোণার ১০ উপজেলার ফলাফল বিশ্লেষণেও রয়েছে ভিন্ন চিত্র। জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ পাশের হার মোহনগঞ্জ উপজেলায়—৬৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এরপর নেত্রকোণা সদরে ৬৪ দশমিক ৩১, মদনে ৬০ দশমিক ৮২, পূর্বধলায় ৬০ দশমিক ৪৯, কলমাকান্দায় ৫৯ দশমিক ২৮, দুর্গাপুরে ৫৮ দশমিক ৩০, কেন্দুয়ায় ৫৫ দশমিক ০৭, আটপাড়ায় ৫০ দশমিক ৮২, খালিয়াজুরীতে ৪৯ দশমিক ৪১ এবং বারহাট্টায় ৪৯ দশমিক ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের ফলাফলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—কোনো বিদ্যালয়েই শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেনি। তবে কারিগরি শিক্ষায় দেখা গেছে হতাশাজনক ফল। জেলা শহরের মালনী কারিগরি স্কুল থেকে এবার ৩১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি।
এদিকে জেলায় দাখিল পরীক্ষায় পাশের হার ৫৩ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পাশের হার ৪৬ দশমিক ৬০ শতাংশ।
শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে কেন্দুয়ার শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ। নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয় থেকে এবার ৩৬ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের সবাই কৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয়টির এ ফলাফল স্থানীয়ভাবে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশাদুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানের মাধ্যমে পড়াশোনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণেই ভালো ফলাফল সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা থাকবে।
নেত্রকোণা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ বলেন, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে পাঠদানে মনোযোগী হলে ফলাফল আরও ভালো হবে।
নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে বিতর্ক, বিজ্ঞান, ভাষা ও সাংস্কৃতিক ক্লাব গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সৃজনশীল ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। এতে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে শিক্ষার ফলাফলও আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।