কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের চন্দ্রশেখরদী এলাকার আবুল কাশেম হোসেনিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভাঙচুরের কারণে মাদ্রাসার পানির সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে আবাসিকভাবে থাকা শিশু শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়েছে। তাদের পুকুরের পানি দিয়ে অজু ও গোসল করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম মো. হোসাইন আহমেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে শামসুন্নাহার বেগম, শাহ জালাল, মো. ইমরান ইসলাম ও মো. আরাফাত উদ্দিনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
থানায় দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, মাদ্রাসার জায়গা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে মাদ্রাসায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরা, টিনের বেড়া, পানির পাইপ, বৈদ্যুতিক লাইট, গ্যাসের চুলাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার সরেজমিনে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে হিফজ বিভাগের ১১ জন শিশু শিক্ষার্থী আবাসিকভাবে থেকে পড়াশোনা করছে। পানির সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের অজু, গোসলসহ দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী পুকুরের পানি ব্যবহার করছে। মাদ্রাসার নিরাপত্তার জন্য থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ও বৈদ্যুতিক লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম মো. হোসাইন আহমেদ বলেন, ‘এখানে ছোট ছোট শিশু আবাসিকভাবে থেকে পড়াশোনা করে। পানির ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা কষ্টে আছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন।’
শামসুন্নাহার বেগমের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁর বাবা শাহ জালাল তাঁকে বলেছেন, তাঁদের জমি মাদ্রাসার লোকজন জোর করে দখল করে রেখেছে। এ কারণে তিনি সেখানে ভাঙচুর করতে গিয়েছিলেন।
তবে শাহ জালাল বলেন, ‘আমি তাকে কোনো হুকুম দিইনি। সে নিজে থেকেই এমনটা করেছে।’
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ঘটনার পরও শামসুন্নাহার মাদ্রাসার আশপাশে গিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দ্রুত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা শামসুল আলম বলেন, বিষয়টি জানার পর ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। তিনি আবার এলাকায় গিয়ে একই ধরনের আচরণ করলে ফায়ার সার্ভিসকে জানানোর কথা বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অফিসার ইনচার্জ জেলা মিটিংয়ে রয়েছেন। তিনি থানায় আসলে বিষয়টি আলোচনা সাপেক্ষে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি জেলা মিটিংয়ে আছি।’ বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে আলোচনা করার কথাও জানান তিনি।
স্থানীয় লোকজন ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, জমি নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করা হোক। তবে এ বিরোধের কারণে আবাসিক শিশু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও নিরাপত্তা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ আহমেদ বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।