ঢাকা | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় প্রধান সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ, নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন

author
খুলনা ব‌্যু‌রো

প্রকাশিত : ১৩ আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:২৬
ad003
খুলনা নগরী প্রবেশমুখে এমন স্বাগতবার্তা। অথচ তার অদূরেই সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। 

নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সামনেও একই চিত্র। এতে একদিকে নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ।

খুলনার বৈকালীর আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়ামের কয়েক মিটার উত্তর পাশে মুজগুন্নিতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের বিশাল স্থাপনা। এর সামনে বড় সাইনবোর্ডে লেখা—‘স্বাগতম, সুন্দরবন নগরী খুলনা।

 কিন্তু সেই স্বাগতবার্তার ঠিক সামনেই খুলনা-যশোর মহাসড়কের পাশে পড়ে থাকে ময়লা-আবর্জনা। এই প্রধান সড়ক দিয়েই প্রতিদিন দেশি-বিদেশি অসংখ্য মানুষ খুলনায় প্রবেশ করেন। ফলে নগরে প্রবেশের মুখেই ময়লার দৃশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নগরীর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা নিয়ে।

শুধু মুজগুন্নি নয়, নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার প্রবেশমুখ, নিরালা তাবলিগখানা কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনেও দীর্ঘদিন ধরে ময়লা ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। 

অনেক স্থানে রাস্তার পাশে ময়লা ফেলে সেগুলোকে অস্থায়ী ডাস্টবিনে পরিণত করেছেন এলাকাবাসী।
বয়রা এলাকার প্রধান সড়কের পাশেও নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

 স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালের সামনের বিভিন্ন স্থানেও ময়লা ফেলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টির সময় এসব ময়লা-আবর্জনা সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার জন্য সরকারি অর্থে নির্দিষ্ট স্থানে পাকা ডাস্টবিন নির্মাণ করলেও অনেক নাগরিক তা ব্যবহার করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

 যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রবও বাড়ছে।
নগরীর বাসিন্দা আফরোজা বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে হলে শুধু সিটি করপোরেশনের ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ দায়িত্বে নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলতে হবে।

গল্লামারী এলাকার চিকিৎসক ডা. অসীম বলেন, ‘রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এতে নানা ধরনের রোগের ঝুঁকি বাড়ে। সবাই সচেতন না হলে একসময় পুরো নগরী ময়লা-আবর্জনায় ভরে যাবে।

খুলনা মহানগর এলাকার বাসিন্দা আবজাল বলেন, ‘আমরা যেভাবে নিজেদের বাড়িঘর পরিষ্কার রাখি, একইভাবে প্রত্যেক নাগরিক যদি রাস্তার নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলেন, তাহলে মশা-মাছির উপদ্রবসহ নানা সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।

নিরালা জাহিদুর রহমান সড়কের বাসিন্দা সাংবাদিক মো. রাজিবুল ইসলাম বলেন, ‘নিরালা মেইন রাস্তার পাশে ময়লা রাখার কারণে চলাচলের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। বৃষ্টির সময় ময়লা-আবর্জনা সড়কে ভেসে আসে। এতে ছোট শিশুসহ পথচারীদের নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু  যায়যায়‌দিন‌কে ব‌লেন , ‘সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে গাড়িতে করে ময়লা সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হয়। শহর পরিষ্কার রাখতে হলে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে এবং নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলতে হবে।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, খুলনার প্রধান প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল এলাকায় যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধে কেসিসি কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হয়ে নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

 তাহলেই ‘সুন্দরবন নগরী খুলনা’র পরিচয় শুধু সাইনবোর্ডে নয়, বাস্তবেও ফুটে উঠবে।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SHA.AZH

SHA.AZH

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT