ঢাকা | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ইতালিতে শিশু কন্যাসহ বাংলাদেশি দম্পতি খুন

৫০ দিন পর নোয়াখালীতে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন

হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূল শাস্তি দাবি স্বজন ও এলাকাবাসীর

author
নোয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৪ আগস্ট, ২০২৬ বিকেল ৪:১৫
ad003
ইতালির রাজধানী রোমে নিজ বাসায় ছুরিকাঘাতে নিহত কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু (৩৮) ও তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরিশার লাশ নোয়াখালীতে তাদের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।

ঘটনার ৫০ দিন পর আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের হৃয়নগরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

এর আগে বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনটি মরদেহ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ বাড়িতে পৌঁছে। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে বাড়ির পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করে। নিহতদের শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন অত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসী। বাড়িতে তিনজনের জন্য পাশাপাশি তিনটি কবর খোড়া হয়।

মাগরিবের নামাজ শেষে বড়ির পাশে শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতেতাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাবুলের একমাত্র ছেলে অয়ন ও বাবুলে বাবা সিরাজুল ইসলাম সবার কাছে নিহদের জন্য দোয়া চান।

হত্যাকারী একই এলাকার মো. শাহাদাত হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় তিনি দ্রুত লাশ দেশে আনার ক্ষেত্রে ইতালি ও বাংলাদেশ সরকারের সহযোগীতার কথা কৃতজ্ঞাতার সাথে স্বরণ করেন।

স্বজন ও এলাকাবাসী তিনজনের এমন করুণ মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করে হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূল শাস্তি দাবি করেন।

এ সময় কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ নূরুল হাকিম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জানতে পরেরেছি যে, খুনি শাহাদাত হোসেন ইউকে থেকে ইতালি গিয়ে নৃশংসভাবে এ খুন করছে। তার সাথে বাংলাদেশে থাকতে এ পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এবং ইতালিতেও বাংলাদেশি হিসেবে যাতায়াত ছিল। এরপর তাদের মধ্যে কি নিয়ে ভুল ‍বুঝাবুঝি হয়েছে নিশ্চিত না। তারপর দেড় বছর আগে কামাল উদ্দিন দেশে আসার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে আমরা সার্বক্ষণিক তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করি। পরে আমরা জানতে পারি যে, বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে শাহাদাত হোসেন তাদেরকে নৃশংসভাবে খুন করেছে। তার ছেলে মৃত্যর খুব কাছে থেকে বাবা, মা ও বোনের লাশ নিয়ে ফিরে এসেছে। আমরা এ পরিবারের নিরাপত্তায় পাশে আছি।’

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন রাতে রাত ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি পার্কসংলগ্ন এলাকার একটি ফ্ল্যাট ছুরিকাঘাতে কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে নিহত হন। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় কামালেলর ছেল অয়নকে(১৮) স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খুনের ঘটনায় সন্দেহভাজন শাহাদাত হোসেনের ছবি প্রকাশ করেছে রোম প্রসিকিউটর কার্যালয়। শাহাদাত হোসেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আবদুল আহাদের ছেলে। কামালের পরিবারে একসময় শাহাদাতের নিয়মিত যাতায়াত ছিল।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
SH.AL

SH.AL

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT