যাযাদি ডেস্ক
নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা। পলাশ উপজেলার সঙ্গে নরসিংদী সদরের সহজলভ্য কোনো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। সম্প্রতি দাবি উঠেছে, ঘোড়াশাল বৃজ থেকে রেল লাইনের পাশ দিয়ে জিনারদী-দগরিয়া-বাসাইল-তরোয়া এলাকা হয়ে নরসিংদী রেল স্টেশন পর্যন্ত আট কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণ করার। এই সড়ক নির্মিত হলে সরাসরি নরসিংদী সদর, রায়পুরা উপজেলা ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সঙ্গে সড়ক পথের সংযোগ ঘটবে। উপকৃত হবে ঘোড়ারশাল-পলাশ, নরসিংদী সদর, কালীগঞ্জ, রায়পুরা, ভৈরব ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া অঞ্চলের মানুষ। পণ্য পরিবহনও সহজলভ্য হবে। কমবে ভাড়া।
রাজধানী ঢাকার কাছাকাছি জেলাও নরসিংদী। এই জেলার ওপর দিয়ে গেছে ঢাকা টু সিলেট মহাসড়ক। যদি নরসিংদী রেল স্টেশন হতে ঘোড়াশাল বৃজ পর্যন্ত রেল লাইনের পাশ দিয়ে সড়ক করা হয় তাহলে আশুগঞ্জের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাও সহজ হবে। ঢাকায় আসা-যাওয়ার চাপ কমবে অন্যান্য সড়কের ওপর। অন্য পথ থেকে এ পথে দূরত্ব কমে আসবে ঢাকা টু নরসিংদীর। আট কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ হয়ে গেলে ভৈরব আঞ্চলিক বাইপাস সড়কের কথাও চিন্তা করা যাবে। বর্তমানে কিশোরগঞ্জ-ব্রাক্ষণবাড়িয়া-নরসিংদী থেকে ঘোড়াশাল-কালীগঞ্জ-ঢাকা যেতে হলে পাচদোনা দিয়ে ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুই অপচয় হয়। সড়কটি হলে সরাসরি ঘোড়াশাল-পলাশ-জিনারদী-রাবানের মানুষ নরসিংদী সদরে সহজে যাতায়াত করতে পারবেন।
নরসিংদী জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম বলেন, দ্রুতই প্রকল্প নেয়া উচিত। এই সড়ক নির্মাণ করাটা এখন সময়ের দাবি। নরসিংদী সদরে যেতে হয় ঘোড়াশাল থেকে আকাবাকা পথে পাচদোনা দিয়ে। প্রায়ই এই সড়কে যানজট লেগে থাকে। আধা ঘণ্টার পথ এক ঘণ্টার ওপর সময় লেগে যায়। টাকাও খরচ হয় বেশি।
এক সময় নরসিংদী সদর থেকে সড়ক পথে রায়পুরা উপজেলায় যেতে হতো বারৈচা হয়ে। প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগে যেতো। সাবেক সংসদ সদস্য রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর উদ্যোগে নরসিংদী সদরের আরশিনগর হতে রায়পুরা পর্যন্ত রেলপথের পাশ দিয়ে সড়ক পথ হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। ফলে অল্প সময়ে নরসিংদী সদর টু রায়পুরা যাতায়াত করা যায়। এতে উপকৃত হয়েছে রায়পুরা উপজেলাসহ পুরো জেলাবাসী। তেমনি ঘোড়াশাল হতে নরসিংদী রেল স্টেশন পর্যন্ত সড়ক পথ নির্মাণ করলে উপকৃত হবে কয়েক জেলার মানুষ। ঘোড়াশাল থেকে পাচদোনা হয়ে ভেলানগরের পথের দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটার। বাইপাস সড়ক নির্মাণ করলে দূরত্ব কমে আসবে প্রায় আট কিলোমিটার। বর্তমানে ১৬ কিলোমিটার পথ যাতায়াত করতে সময় ব্যয় এক ঘণ্টার ওপরে। রেল লাইনের পাশ দিয়ে প্রায় আট কিলোমিটার সড়ক নরসিংদী সদর পর্যন্ত নির্মাণ করলে যাতায়াতে সময় লাগবে আধা ঘণ্টারও কম।
সড়কটি হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ঘোড়াশাল পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মো. আলম মোল্লা। তিনি বলেন, আমরা সদরের কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও অনেক পথ ঘুরে নরসিংদী শহরে যেতে হয়। এই পথ হয়ে গেলে অল্প সময়ে সদরে যাওয়া-আসা করা যাবে। শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে ছেলে-মেয়েরাও অনেক কষ্ট করে। আমরাও রাজনৈতিকভাবে চেষ্টা করছি এই সড়ক নির্মাণের। শিগগিরই এই সড়কের বিষয়ে কথা বলব ড. মঈন খানের সঙ্গে। রাস্তাটি হওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট মহলে।
নরসিংদী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আমজাদ হোসাইন বলেন, ঘোড়াশাল-পলাশ আমার নির্বাচনী এলাকা। বিভিন্ন ফোরামে রেল লাইনের পাশ দিয়ে সড়ক নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। ঘোড়াশাল বৃজ থেকে জেলা হসপিটাল পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার রাস্তা হয়ে গেলে এই এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির নরসিংদী জেলা কমিটির আহ্বায়ক কমরেড সুমন আজাদের বাড়ি পলাশে। রেল লাইনের পাশ দিয়ে সড়ক নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নরসিংদী থেকে ঘোড়াশাল পর্যন্ত রাস্তাটা হলে অনেক সময় বাচবে। সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে জিনারদী, রাবান, বরাব ও টান ঘোড়ারশালের মানুষ। এই অঞ্চলে প্রচুর কলা ও আনারস হয়। রাস্তা না থাকায় বিপণন করাটা কঠিন হয়ে পড়ে কৃষকদের।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পলাশ উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী সাইদুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেন, রাস্তাটা হলে ঘোড়াশাল-জিনারদী-বড়িবাড়ি এলাকার মানুষের দুর্ভোগ থাকবে না। শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবেন। এই অঞ্চলের মানুষ সহজে সদর হসপিটাল, জেলা হসপিটাল থেকে চিকিৎসাও নিতে পারবেন। এখন চরনগরদী দিয়ে ঘুরে যেতে হয়। ব্যাপক সময় লাগে।