বরিশালের ৩৮ নদীর ১০৮০ কিলোমিটার এলাকার অর্ধেকই রয়েছে ভাঙ্গন ঝুকিতে। একসাথে ভেঙ্গেছে ১৮০ টি স্পটে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে ২৮’শ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে মেহেন্দিগঞ্জ, উজিরপুর ও বাবুগঞ্জ উপজেলার ভাঙ্গন অধিকাংশ রোধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার দশ উপজেলার মধ্য দিয়ে ছোট-বড় ৩৮ টি নদী বহমান রয়েছে। ঝড়, বন্যা ও নানা রকম দূর্যোগে সেসব নদীর পানির তোরে প্রতিনিয়তই ভাঙ্গছে তীরবর্তী এলাকা। ভাঙ্গন রোধে স্পাটগুলোতে ব্লক ও জিও ব্যাগের ব্যবহার করা হলেও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারনে তা দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুফল বয়ে আনছেনা। অন্যদিকে বন্যা, জলোচ্ছাস ও অতিজোয়ারের কারনেও নদী তীরবর্তী নতুন নতুন এলাকা ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বন্যায় বানারীপাড়া, মেহেন্দিগঞ্জ, মুলাদী, হিজলা, উজিরপুর ও বরিশাল সদর উপজেলার মাত্র ৫’শ মিটারের মধ্যে ১৮০ টি স্পটে নদী ভাঙ্গনের ঘটনা ঘটেছে। যার মেরামত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশী ভাঙ্গনের শিকার হয় মেঘনা, তেতুলিয়া, সন্ধ্যা ও কারখানা নদীর বিভিন্ন এলাকা। অন্যদিকে বন্যায় জেলার বিভিন্ন নদী থেকে পানি ফসলি জমিতে প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হলেও উপকুলবর্তী এলাকা না হওয়ায় বরিশালে নেয়া হয়না কোন বেরিবাঁধ প্রকল্প। পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধুমাত্র নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ প্রকল্প দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করছে বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের।
এদিকে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে বিশেষ করে মেহেন্দিগঞ্জ, বাবুগঞ্জ ও উজিরপুরে সন্ধ্যা-সুগন্ধা-মেঘনা-তেতুলিয়া নদী এলাকার জন্য ২৮’শ কোটি টাকার প্রকল্প ঢাকা পাঠিয়েছে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরমধ্যে মেহেন্দিগঞ্জের দক্ষিন উলানিয়া, চানপুর, শ্রীপুর ও সদর ইউনিয়নের সাড়ে ১১ কিলোমিটার জায়গায় ব্লক ও জিও ব্যাগ স্থাপন কাজ রয়েছে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭’শ কোটি টাকা। অন্যদিকে বাবুগঞ্জ ও উজিরপুরের ২৬ কিলোমিটার এলাকাজুরে ভাঙ্গন রোধেও রয়েছে একই প্রকল্প। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২১’শ কোটি টাকা। প্রকল্প দুটি পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ে আছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বরিশাল জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাবেদ ইকবাল জানান, প্রাকৃতিক দূর্যোগসহ নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারনে অধিকাংশ ভাঙ্গনের ঘটনা ঘটছে। এর সাথে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলনের কারনেও নদী ভাঙ্গন হচ্ছে। তবে যে প্রকল্প ঢাকায় পাঠানো হয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে ওই অঞ্চলের ভাঙ্গন স্থায়ীভাবে রোধ হবে বলে তিনি জানান। বর্তমানে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ও বরিশাল সেনানিবাস সংলগ্ন নদীতে এরকম প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে যা সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড দক্ষিনাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ সাহিদুল সুমন জানান, জেলার নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে একাধিক প্রকল্পর পাশাপাশি কীর্তনখোলা নদী দখল ও দূষনমুক্ত করণ প্রকল্পও জমা দেয়া আছে। যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অতিবৃস্টিসহ নানা কারনে এ জেলার অধিকাংশ ভাঙ্গন তৈরী হচ্ছে। এতে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও হুমকির মধ্যে আছে। সেসব রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বিশেষভাবে কাজ করে থাকে। তবে তিনি ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে নদীর তীরবর্তী এলাকায় মাটি আকড়ে ধরে এরকম বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপনের পরামর্শ প্রদান করেন।