বরাদ্ধ না থাকায় বন্ধ হওয়ার পথে অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্র। সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয়ের নিউরো-ডেভলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট এর অধীনে বরিশালে প্রায় এক বছর আগে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এরই মধ্যে বন্ধের উপক্রম হয়েছে। অথচ এই প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র দেড় বছরে ২৮ হাজারের অধিক প্রতিবন্ধী সমন্বিত সেবা গ্রহন করেছেন। যাদের ৯০ ভাগই দারিদ্রসীমার নিচের মানুষ। যাদের একমাত্র ভরসাস্থল তৈরী হয়েছিলো প্রতিষ্ঠানটি।
সমাজ সেবা অধিদপ্তরের হিসাব মতে, সারাদেশে ৩৫ লক্ষাধীক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে। তবে বিবিএস জরিপে এ সংখ্যা ৪৬ লাখ। শুধুমাত্র বরিশাল বিভাগে প্রতিবন্ধীতার হার মোট জনসংখ্যার ২.৪২ শতাংশ। যাদের সমন্বিত চিকিৎসা প্রয়োজন। সরকারের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পুরনে উক্ত গোষ্ঠির সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয়ের নিউরো-ডেভলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট অটিজম ও এনডিডি সেবা কেন্দ্র নামে একটি প্রকল্প চালু করে। অটিজম ও এনডিডি সেবা কেন্দ্র প্রতিবন্ধীতা ও প্রতিবন্ধীতার ঝুকিতে থাকা ব্যক্তিদের বিনামুল্যে বিশেষায়িত সমন্বিত পুনর্বাসন চিকিৎসা দিয়ে থাকে। যা প্রতিবন্ধী মানুষদের ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপি, সাইকোলজিক্যাল ও সিএমডব্লিউ সেবা প্রদান করে আসছে। ঢাকাসহ কয়েক বিভাগে এ সেবা কেন্দ্র ২০২২ সালে কার্যক্রম শুরু করলেও বরিশালে শুরু হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে। যার ব্যয় নির্বাহ করা হয় সরকারের জিওবি ফান্ড থেকে। জানা গেছে, মাত্র দেড় বছরে অর্থাৎ ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বরিশালের এ কেন্দ্রটি থেকে সেবা গ্রহন করেছেন ২৮ হাজার ৫৫১ জন। যার মধ্যে ফিজিওথেরাপি সেবা নিয়েছেন ৪৮৯৬ জন, অকুপেশনাল থেরাপি নিয়েছেন ২৭৭৪ জন, স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপি নিয়েছেন ৩৮৭২ জন, সাইকোলজিক্যাল সেবা নিয়েছেন ৭৯৮ জন, সিএসডব্লিউ সেবা নিয়েছেন ৫৮৪ জন ও ইয়োগা থেরাপি নিয়েছেন ৩৩৬২ জন। তবে বেশিরভাগ চাহিদাই ফিজিওথেরাপি সেবা। যাদের অধিকাংশই দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। অথচ জনবল ও প্রয়োজনীয় সেবা কেন্দ্রের অভাবে ৯০ ভাগ মানুষকেই এই সেবা দেয়া সম্ভব হয়না। বিবিএস এর দেয়া তথ্য মতে দেশে সবচেয়ে বেশি দারিদ্রতার হার বরিশালে। বরিশাল বিভাগে ২৬.৬ ভাগ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। গ্রাম পর্যায়ে যার সংখ্যা ২৮.১ ভাগ। এই বিশাল সংখ্যক দারিদ্র প্রতিবন্ধীদের পক্ষে ব্যয়বহুল সমন্বিত চিকিৎসা নেয়া সম্ভব নয়। তাই সরকার সমাজকল্যান মন্ত্রনালয়ের প্রকল্পর মাধ্যমে এই সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করে। তবে প্রকল্পর মেয়াদ ধরা হয় ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। মেয়াদ শেষে প্রকল্পে নতুন বরাদ্ধ না দেয়ায় সরকারের এ সেবা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নতুন করে অর্থ বরাদ্ধ না দেয়ায় বন্ধ রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও প্রতিষ্ঠানের বাড়ি ভাড়া। বেশ কয়েক মাস বেতন না পেয়েও দরিদ্র প্রতিবন্ধীদের কথা মাথায় রেখে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির ডাক্তার, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। কিন্তু ব্যক্তিগত আর্থিক দিক বিবেচনা করে সেটা বেশিদিন চালিয়ে রাখা সম্ভব হবেনা বলে জানিয়েছেন সেখানকার অনেক কর্মচারী। প্রতিষ্ঠানটির বরিশাল কেন্দ্রের কনসালটেন্ট ডাঃ মুহাঃ সাইফুল ইসলাম সালুকী জানান, বরিশালে প্রতিষ্ঠানটি চালুর দেড় বছরের মধ্যে আটাশ হাজারের অধিক প্রতিবন্ধী মানুষকে বিনামুল্যে সেবা দিয়েছে। যা এককভাবে সরকারের আর কোন প্রতিষ্ঠান দিতে পারেনি। এখানে সেবা নিতে আসা অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র। যাদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নেয়া সম্ভব নয়। তাই দরিদ্র জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্যসেবার দিক বিবেচনা করে প্রকল্পর মেয়াদ বৃদ্ধির মাধ্যমে অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্রটি চালু রাখা উচিৎ। তিনি আরও জানান. প্রকল্পটির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সুপারিশ প্রেরন করা হয়েছে।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্রটি দরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য একটি আশির্বাদ সরূপ। এখানে সেবা নিয়ে অনেক প্রতিবন্ধী কর্মক্ষমতা ফিরে পেয়েছেন। এর গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রকল্পটির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পিডি বরাবর সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি একনেকের বৈঠকে উঠেছে বলে জানাও গেছে। জেলা প্রশাসক আশা করছেন এর গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার অবশ্যই প্রকল্পটির মেয়াদ বৃদ্ধি করবে।