ঢাকা | মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ইং | ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে বটতলা বইপোকা হওয়ার শিক্ষা দেয়

author
Editor

প্রকাশিত : ৪ জুলাই, ২০২৫ সকাল ৬:০৫
ad003
ইবি প্রতিনিধি 

বই মনের খোরাক জোগায়, সভ্য হওয়ার শিক্ষা দেয়। বই মানে ইতিহাস-ঐতিহ্যের সংগ্ৰহশালা।  অতীত এবং বর্তমানের মাঝে সেতুবন্ধন রচনা করতে বই এক অনন্য মাধ্যম। সচেতন সমাজ বিনির্মাণে এবং সুস্থ চিন্তার অধিকারী হতে বই পড়ার বিকল্প নেই। বই মানুষের মনের বদ্ধ জানালা খুলে দেয়। 

বই মানে শত জ্ঞানের ভাণ্ডার। আর শত বইয়ের সমারোহে গঠিত গ্ৰন্থাগার যেন এক সমুদ্র জ্ঞানের ছড়াছড়ি। তেমনি একটি গ্ৰন্থাগার গড়ে উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি), একদল স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীর উদ্যোগে। গ্ৰন্থাগারটি ‘তারুণ্য’ নামক একটি সংগঠনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।

জানা যায়, পাঠাগারটি প্রতি বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে বসে। সকাল দশটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত গ্ৰন্থাগারের কার্যক্রম চলে। প্রায় এক হাজার পাঁচশত বই এবং সাড়ে তিনশ’র বেশি সদস্য নিয়ে নিয়মিত এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নির্দিষ্ট একটি সংগঠনের অধীনে পরিচালিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো শিক্ষার্থী মাত্র দশ টাকা প্রদান করে আজীবন গ্ৰন্থাগারের সদস্য হতে পারবেন। এছাড়াও পাঠকের সুবিধানুযায়ী বই ধার নিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। 

গ্ৰন্থাগারের বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ সুমন ইসলাম বলেন,“তারুণ্য লাইব্রেরী জ্ঞানের প্রদীপ হয়ে আলো ছড়াচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীদের মাঝে। যারা জ্ঞান পিপাসু তাদের কাছে বই সংগ্রহের অন্যতম আস্থার নাম তারুণ্য লাইব্রেরী। মূলত পাঠাভ্যাস বাড়ানোর উদ্দেশ্যই তারুণ্যের এই মহৎ উদ্যোগ। বর্তমানে অনলাইন যুগে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অযথা সময় নষ্ট না করে যে কেউ বই পাঠের মাধ্যমে হারিয়ে যেতে পারে জ্ঞানের রাজ্যে। যা একজন শিক্ষার্থীর সুষ্ঠু মেধা-মনন বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

এ বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি মুরসালিন ইসলাম তুরাণ জানান,“তারুণ্য লাইব্রেরি তরুণ প্রজন্মের পাঠাভ্যাস গঠনে কাজ করে । ২০১৮ সাল থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়াতে এই লাইব্রেরি কাজ করে যাচ্ছে। এখানে রয়েছে সাহিত্যের অনন্য রচনা, ইতিহাসের দলিল, এবং আত্মউন্নয়নমূলক বহু বইসহ ১৫০০-এর বেশি সংগ্রহ।”

তিনি বলেন, “প্রতিবারের মতো, সপ্তাহের বুধবারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা চত্বরে এই পাঠাগার সকল শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত থাকে। আমরা বিশ্বাস করি—বই কেবল জ্ঞান দেয় না, এটি মানুষকে ভাবতে শেখায়, উন্নত করে মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি। তারুণ্য লাইব্রেরি সেই চিন্তার বীজ বপন করছে। আমাদের এই পথচলা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে, চিন্তার জগতে আলোকিত করতে।”

আমাদের সমাজে বই পড়ার গুরুত্ব অপরিহার্য হলেও সহজলভ্যতার অভাব এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষত শিক্ষা জীবনে আর্থিক সীমাবদ্ধতা জ্ঞানচর্চার পথে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এমতাবস্থায়, তারুণ্যের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সীমিত পরিসরে মুক্ত জ্ঞানচর্চার সুযোগ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ বিস্তৃত পরিসরে জ্ঞানচর্চার অবারিত সুযোগ দিয়ে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করবে —এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।
সংবাদটি শেয়ার করুন :
প্রতিবেদকের তথ্য
JJD_Online

JJD_Online

© স্বত্বাধিকারঃ যায়যায়দিন
কারিগরী সহযোগিতায় MULTISOFT