যাযাদি ডেস্ক
বাংলাদেশে কাজ করছে বহু ভারতীয় নাগরিক। এদের অনেকেই অবধৈভাবে কাজ করছেন। তাদের নেই কনো ’ওয়ার্ক পারমিট’। এসব অবৈধ ওর্য়াকারদের কারণে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে।
সম্প্রতি এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসছে অনুসন্ধানে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একটি কোম্পানিতে দুজন অবৈধ ভারতীয় নাগরিক, জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালি ইউনিয়নের কাইজার চর মৌজা এলাকায় অবস্থিত রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (RPCL)-এর ১০০ মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টে প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে, ভারতীয় প্রতিষ্ঠান M/S Amara Raja Infra Pvt. Ltd.
যাদরে অফসি রয়ছেে ঢাকায়, Saleh Tower, 5th Floor , Plot No. 01 , Road 13, Sector 13, Garib E Newaz Avenue , Uttrara C/A , Uttara Model Town , Dhaka-1230 লোকাল গেস্ট হাউজ: a Uttara Sector 1, Road 5, House 19 যাদরে ভারতীয় অফিস ঠিকানা: a Terminal A, 1-18/1/AMR/NR, Nanakramguda, Gachibowli, Hyderabad-500032, India TIN : 861316499967 BIN:006169007-0101 উক্ত প্রকল্পে ডেপুটি কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ভারতীয় নাগরিক শুভেন্দু কুমার বিশ্বাস (পাসপোর্ট নং: Z7047483, ভিসা টাইপ: B, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত) তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে অবৈধভাবে বাংলাদেশে কর্মরত আছেন। ‘ B ’ টাইপ ভিসা বাংলাদেশে কাজ করার অনুমতি দেয় না ।
তিনি প্রতি মাসে আনুমানিক ৪ লক্ষ টাকার বেশি বেতন নিচ্ছেন এবং সরকারি ভ্যাট ও আয়কর পরিশোধ না করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, এতে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে।
শুভেন্দু কুমার বিশ্বাস বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগপন্থী একটি দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত।
তিনি প্রকল্পের উপ-ঠিকাদার আজাদ এন্টার প্রাইজের মালিক আবুল কালাম আজাদ এর কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ গ্রহণ করেন।
আবুল কালাম আজাদ একজন পলাতক আসামি, যার বিরুদ্ধে রয়েছে: মাদারগঞ্জ মডেল থানার মামলা নং: ১০, তারিখ: ২৪.১০.২০২৪ (বিস্ফোরক আইন অনুযায়ী) আরও ৩-৪টি গুরুতর ফৌজদারি মামলা, যার মধ্যে তার ভাই মোহাম্মদ আহসান-এর বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে। অদৃশ্য কারণে মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ এখনো তাদের গ্রেফতার করেনি।
এছাড়াও, একই প্রকল্পে উদয় কুমার (পাসপোর্ট নং: W5066802, ভিসা টাইপ: B) নামের আরও একজন ভারতীয় M/S Amara Raja Infra Pvt. Ltd -এর হয়ে অবৈধভাবে কর্মরত রয়েছেন।
উক্ত কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা অবৈধভাবে বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিক শুভেন্দু কুমার বিশ্বাস ও উদয় কুমার এর বিষয়টি স্বীকার করনে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানM/S Amara Raja Infra Pvt. Ltd এর এইচ আর এক্সিকিউটিভ মি. সুতিন।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা জানান, অবৈধভাবে যদি কেউ থাকে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমরা প্রস্তুত।
ওয়ার্ক পারমিট না নিয়ে কাজ করার বিষয়ে জানতে চাইলে শুভেন্দু কুমার বিশ্বাস জানান, তিনি ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যথাস্থানে আবেদন করেছেন। খুব শিগগিরই তিনি ওয়ার্ক পারমিট পেয়ে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশে বৈধ কিংবা অবৈধভাবে কর্মরত ভারতীয়দের সংখ্যা নিয়ে একটি বড় ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
কিছুদিন আগে অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে ২২ লাখ ভারতীয় কর্মরত। তার এ অবিশ্বাস্য বক্তব্য বাংলাদেশ ও ভারতে প্রচণ্ড আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বছর খানেক আগে ইউটিউবে প্রচারিত পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি নিউজ ক্লিপে দাবি করা হয়েছিল যে বাংলাদেশে পাঁচ লাখেরও বেশি ভারতীয় কর্মরত রয়েছে, যার মধ্যে অনুমোদিত সাড়ে চার লাখই নাকি ‘ট্যুরিস্ট ভিসা’ নিয়ে অবৈধভাবে এ দেশে কাজ করছে। ওই নিউজ ক্লিপের মতে, মাত্র ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৫০ হাজার ভারতীয় বাংলাদেশ সরকার থেকে বৈধ অনুমতি ও ‘ওয়ার্ক পারমিট’ নিয়ে এ দেশে চাকরি করছে। ৫ লাখ ভারতীয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাকি কর্মরত রয়েছে তৈরি পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউজগুলোয়, তারপর আইটি-সংশ্লিষ্ট ফার্ম, ট্রাভেল এজেন্সি ও অন্যান্য সেবা খাতে। তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ১ লাখ ভারতীয় নাকি টেকনিশিয়ান, ডিজাইনার ও ম্যানেজমেন্ট-সংক্রান্ত চাকরিগুলোয় কর্মরত রয়েছে, যাদের মাসিক আয় ২-১০ হাজার ডলার। তৈরি পোশাক খাতের বায়িং হাউজগুলোয় প্রায় ১ লাখ ভারতীয় নাকি কাজ করছে, যেজন্য দেশের বায়িং হাউজগুলোয় ভারতীয়দের দাপট সহজেই চোখে পড়ে।
এছাড়া আইটি ফার্মগুলোয় সফটওয়্যার এক্সপার্ট হিসেবে এবং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমগুলোয়ও ভারতীয় দক্ষ বিশেষজ্ঞদের বিপুল সংখ্যায় কাজে লাগানো হচ্ছে। কারণ বাংলাদেশে এসব কাজের উপযুক্ত দক্ষ পেশাজীবীর বিরাট ঘাটতি রয়েছে। ওই নিউজ ক্লিপের দাবি, বেশির ভাগ ভারতীয় বৈধ-অবৈধ চাকরিজীবী হুন্ডি প্রক্রিয়ায় তাদের আয়ের সিংহভাগ ভারতে পাচার করে চলেছে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে তাদের বেতন বাবদ অবৈধভাবে পাচার করা অর্থের পরিমাণ বাংলাদেশী টাকার অংকে প্রায় ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা হবে বলে অনুমান করা হয়েছে। বিডিজবস.কমের একটি জরিপেও এমন দাবি করেছেন ওই সংস্থার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা। তৈরি পোশাক শিল্প ও আইটি ফার্মের এক শ্রেণীর বাংলাদেশী মালিক তাদের নানাবিধ অবৈধ কাণ্ড গোপনে ও নির্বিঘ্নে চালানোর জন্য এ ভারতীয় কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়াকে নাকি বেশি নিরাপদ মনে করেন।
অভিবাসী হিসেবে বাংলাদেশে তাদের আইনি মর্যাদার দুর্বলতা তাদের মালিক পক্ষের নানাবিধ অবৈধ কর্মকাণ্ডে সহায়তা প্রদান ও সেসব তৎপরতা গোপন রাখতে বাধ্য করে বলে নিউজ ক্লিপে দাবি করা হয়েছে। সেই উপদেষ্টা ও নিউজ ক্লিপের ‘আলোড়ন সৃষ্টিকারী’ দাবিগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না ওয়াকিবহাল মহল। কিন্তু কয়েক মাস আগে ইউটিউবে দেখলাম, হা-মীম গ্রুপের মালিক এ কে আজাদ দাবি করেছেন বাংলাদেশে ১ লাখ ২৫ হাজার ভারতীয় কাজ করছে এবং তারা প্রতি বছর ৪-৬ বিলিয়ন ডলার হুন্ডি পদ্ধতিতে ভারতে নিয়ে যাচ্ছে। অতএব বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয়দের সংখ্যা সম্পর্কে বিভ্রান্তি নিরসনের জন্য এ দেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের সংখ্যা সঠিকভাবে নিরূপণে অবিলম্বে সরকারের একটি সরেজমিনে জরিপ পরিচালনা করা আবশ্যক ।